রুপান্তর নিউজ রুপান্তর নিউজ
Admin
পরীক্ষা নাকি শিক্ষার্থীর জীবন❗ অগ্রাধিকার কোনটি❓


দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর মেধা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে-
আমরা কি পরীক্ষাকে মানুষের জীবনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি ?
সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও পরীক্ষাকেন্দ্রে পানি জমেছে, কোথাও পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে, আবার কোথাও ভেজা পোশাক বদলে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব উদ্যোগ প্রশাসনের আন্তরিকতার পরিচয় বহন করলেও, মূল প্রশ্নটি থেকেই যায়-
এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটা ছিল ?
একটি পাবলিক পরীক্ষা শুধু প্রশ্নপত্রের উত্তর লেখার বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীর মানসিক স্থিরতা, শারীরিক নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগের সঙ্গেও জড়িত। দুর্যোগে কেউ সহজেই কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারলেও, কেউ হয়তো জীবন ঝুঁকিতে ফেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলে সবার জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে- এ দাবি করা কঠিন।
অভিভাবকদের উদ্বেগও অমূলক নয়। সন্তানের ভবিষ্যৎ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তার নিরাপদে ঘরে ফিরে আসাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পরীক্ষার জন্য যদি পরিবারকে বন্যার পানি, জলাবদ্ধতা বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকতে হয়, তবে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার অভিযোগও শিক্ষা ব্যবস্থার আরেকটি দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। ভুলের দায় অতীত বা বর্তমান-
যারই হোক না কেন, শিক্ষার্থী তার দায় বহন করবে কেন? পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক সমাধান হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই প্রশ্ন প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ার জবাবদিহির বিকল্প নয়।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা থাকে। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্ব কখনো পরিবর্তিত হয় না। তাই অতীতকে দায়ী করার চেয়ে বর্তমান সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই বেশি জরুরি। দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট ও মানবিক নীতিমালা প্রয়োজন। এমন নীতি, যেখানে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মানসিক চাপ এবং বাস্তব পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। প্রয়োজনে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষা পেছানো কোনো ব্যর্থতা নয়; বরং সেটিই দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের পরিচয়।
একটি পরীক্ষার সময়সূচি পরে নির্ধারণ করা যায়, কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি আর ফিরিয়ে আনা যায় না। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলই করবে না, বরং নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক পরিবেশে সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। আজ তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন একটাই—পরীক্ষার সূচি কি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, যে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে তার পরে রাখতে হবে ?
সাঈদ মুহাম্মদ আজিজ
কলামিস্ট, কুষ্টিয়া
১৫ জুলাই ২০২৬

