রুপান্তর নিউজ রুপান্তর নিউজ
Admin
কুষ্টিয়ায় নকল সিগারেটের ছড়াছড়ি: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ ধূমপায়ী


জিয়ারুল ইসলাম: কুষ্টিয়ার বাজারে নকল সিগারেটের দৌরাত্ম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। নামী-দামী ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি নকল সিগারেট। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে এসব নিম্নমানের তামাকজাত পণ্য সেবন করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ ধূমপায়ীরা।
সরকার কর্তৃক সিগারেটের ওপর উচ্চহারে কর আরোপের পর থেকে বাজারে সিগারেটের দাম বেড়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, এই বাড়তি দামের সুযোগ নিচ্ছে একটি অসাধু চক্র। তারা মূল ব্র্যান্ডের সিগারেটের পরিবর্তে ভেতরে ভেজাল বা নকল তামাক মিশিয়ে তা বাজারজাত করছে।
দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন এমন অনেকেই অভিযোগ করছেন, আগে যে ব্র্যান্ডের সিগারেটের স্বাদ ও গুণগত মান ছিল, এখন তার কোনোটিই পাওয়া যাচ্ছে না। আলী হোসেন নামের একজন ধূমপায়ী আক্ষেপ করে বলেন, “আগে সিগারেটের যে স্বাদ ছিল, এখন তা আর নেই। কেমন যেন রুচিহীন মনে হয়। অথচ দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। অভ্যাসের কারণে বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে, কিন্তু বুঝতে পারছি এর ভেতরে কোনো গরমিল আছে।
একই কথা জানালেন ইউসুফ আলী নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “আগে আমরা যে সিগারেট খেতাম, এখনকারটির স্বাদে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আমাদের ধারণা, নামী ব্র্যান্ডের মোড়কে এখন নকল সিগারেট দেদারসে বিক্রি হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল সিগারেটে ব্যবহৃত তামাক ও কাগজ অত্যন্ত নিম্নমানের এবং স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। এগুলো তৈরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলছাত্রের অভিভাবক বলেন, “সিগারেট এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এখন শুনছি বাজার নকল সিগারেটে ভরে গেছে। এই ক্ষতিকর নিকোটিনের সাথে আরও কী কী বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন। আমার ছেলের ভবিষ্যৎ ও স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা দিশেহারা।”
অতীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকটি নকল সিগারেট কারখানা ও গুদামে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করেছে। কিন্তু অভিযানের কিছুকাল পরেই রহস্যজনক কারণে পুনরায় এসব কারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলছেন, কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং এসব অসাধু কারখানার মূল হোতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যথায়, নকল এই বিষাক্ত পণ্য পুরো সমাজকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দেবে।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল চিকিৎসক ডক্টর পীযূষ কুমার সাহা দৈনিক কুষ্টিয়ার খবরকে জানান, নকল প্রতিটা জিনিসই স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তার উপরে আবার সিগারেট! সিগারেট এমনি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বেশ অবদান রাখে, এটি যদি নকল পন্থা অবলম্বন করে তৈরি করা হয়, তাহলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো অনেক গুনে বেড়ে যাবে।
কুষ্টিয়ার জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং অবৈধ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী অভিভাবক সমাজ।

