প্রকাশিত: 10:43 PM, July 14, 2026


কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী মোল্লার ইন্তেকাল, জেলা জামায়াতের শোক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলার সাবেক সংগ্রামী নায়েবে আমীর, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী মোল্লা আর নেই।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে তার নিজ জন্মভূমি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রাম গ্রামে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী শাহজাহান আলী মোল্লা ১৯৭৩ সালে তৎকালীন ছাত্র সংঘের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীর রোকন (সদস্য) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দলের প্রতি নিষ্ঠা ও দক্ষতার কারণে ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথমবারের মতো মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন।

​এরপর পর্যায়ক্রমে ২০০৪ সালে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারী, ২০০৬ সালে জেলা সেক্রেটারী এবং একই সাথে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে তিনি কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

একনিষ্ঠ এই কর্মীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত। এক যৌথ শোকবার্তায় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার এ. কে. এম. আলী মহসিনসহ জেলা নেতৃবৃন্দ বলেন, “শাহজাহান আলী মোল্লা ছিলেন দ্বীনের একজন একনিষ্ঠ মুজাহিদ এবং দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন এই মুখলিস মুজাহিদকে ক্ষমা ও দয়া করেন এবং তার সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন।”

​নেতৃবৃন্দ মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সাথে তারা পরিবারকে এই শোক সহ্য করার ধৈর্য ও তাওফিক দানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।