রুপান্তর নিউজ রুপান্তর নিউজ
Admin
কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অভাবনীয় সাফল্য: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় জেলায় সর্বোচ্চ ৬৫ বৃত্তিপ্রাপ্ত


এস এম জামাল, কুষ্টিয়া: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এবার জেলায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিদ্যালয়টির মোট ৬৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে, যা কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৩৮ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২৭ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। এই অসাধারণ সাফল্যে বিদ্যালয়জুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতার সমন্বয়ে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নাদিরা খানম বলেন, “এটি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই ফলাফল শুধু বিদ্যালয়ের নয়, কুষ্টিয়া জেলার প্রাথমিক শিক্ষার জন্যও একটি গৌরবের অর্জন বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনা বেগম বলেন, “আমাদের ছাত্রীরা তাদের মেধা, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষকরাও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে তাদের প্রস্তুত করেছেন। আমরা আশা করি, তারা ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া ব্যাচ নিয়ে শুরুতে নানা ধরনের মন্তব্য ও সংশয় ছিল। কিন্তু সেই সব নেতিবাচক মন্তব্যকে অগ্রাহ্য করে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। এই সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।”
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নাজনীন নাহার নিপা, ইসরাত জাহান তাফসি, উম্মে ফাতেমা, আফিয়া হোসাইন, জান্নাতুল মাওয়া, নুসরাত তাবাসসুম নিশাত, নুঝহাত তাবাসসুম লাবিবা, অদ্বিতীয়া বিশ্বাস, তানহা,তুলতুল, তাইয়েবা, ফারহীন, মারজানা, মিম, রুকু, তাসফিয়া, নাফিসা, মালিহা জানান, “নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের উৎসাহ আমাকে এই সাফল্য অর্জনে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করে দেশের সেবা করতে চাই।”
ফারহানা মুন্নী পাখি নামে এক অভিভাবক বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করিয়েছেন। সময়মতো পরীক্ষা না হওয়ায় শিক্ষকরা বই ডাউনলোড করে আমার সন্তানদের পড়িয়েছেন। তাদের প্রচেষ্টার কারণেই আমাদের সন্তানরা এত ভালো ফলাফল করতে পেরেছে। আমরা বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এই সাফল্য জেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়টির ধারাবাহিক সাফল্য ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বিদ্যালয়ের এই কৃতিত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। জেলার শিক্ষাঙ্গনে এই অর্জন ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

